মেজর সিনহার মাকে চিঠি পাঠালেন সে’নাপ্রধান

মেজর সিনহার অকাল প্রয়াণে সে’নাবাহিনী প্রধান হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে অ’ত্যন্ত শােকাহত এবং ব্যথিত। সন্তানহারা মাকে সান্ত্বনা প্রদানের উপযু’ক্ত ভাষা বােধকরি খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তবুও, এই চরম শােকাবহ মুহূর্তে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনার ও আপনার পরিবারের সকল সদস্যদেরকে এই শোক কাটিয়ে উঠার শক্তি প্রদান করেন।

মেজর সিনহা একজন প্রতিশ্রুতিশীল, দক্ষ, সৎ, সাহসী এবং কর্তব্যপরায়ণ অফিসার ছিলেন। চাকরি জীবনে সকলের সাথে সুহৃদ আচরণ ও সহযােগিতামূলক মনােভাবের কারণে সকল স্তরের সে’নাসদস্যের কাছে তার গ্রহণযােগ্যতা ছিল প্রশংসনীয়।

২০১৮ সালে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরী হতে অবসর গ্রহণ করলেও তিনি সে’নাপরিবারের একজন গর্বিত সদস্য ছিলেন। একটি অনাকাঙ্কিত ঘটনায় এমন একজন তরুণ তা’জা প্রা’ণ এর ম’র্মা’ন্তিক মৃ’ত্যুতে সে’নাবাহিনী তথা দেশ একজন অমিত সম্ভাবনামী সন্তানকে হারিয়েছে। এই অ’পূরণীয় ক্ষতি লাঘবের সাধ্য কারও নেই। আম’রা সকলে পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে মেজর সিনহা এর বিদেহী আত্মা’র মাগফেরাত কামনা করছি।

সে’নাবাহিনী প্রধান হিসেবে আমি আপনাকে আশ্রয় করতে চাই যে, অবসরপ্রাপ্ত হলেও, মেজর সিনহা এর ম’র্মা’ন্তিক মৃ’ত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ত’দন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সে’নাবাহিনী প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই ম’র্মা’ন্তিক দুর্ঘ’টনা স’ম্পর্কে অবহিত করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অ’ত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং সহানুভূতির সাথে সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

এরই ফলশ্রুতিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের যৌথ ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং উক্ত কমিটি সরেজমিনে নিরপেক্ষ ত’দন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান ও দোষী ব্যক্তিদের শা’স্তির আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়াও, এই অনাকাঙ্কিত মৃ’ত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সে’নাবাহিনীর পক্ষ হতে প্রশাসন ও পু’লিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিবিড় যােগাযােগ হাপন করা হয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, আপনার সন্তানকে আম’রা ফিরিয়ে দিতে পারবনা, তবে তার এই অকাল মৃ’ত্যুর সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সে’নাবাহিনী সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইনশাআল্লাহ।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা আপনার প্রয়াত সন্তানকে জান্নাতবাসী করুন এবং আপনাকে ও আপনার পরিবারের সকলকে শােক সহ্য করার ধৈর্য ও মনােবল দান করুন এই প্রার্থনাই করছি।

প্রসঙ্গত, দুই বছর আগে সে’নাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া সিনহা মো. রাশেদ খান ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। আরো তিন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে। গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পু’লিশের গু’লিতে তিনি নি’হত হন।

ঘটনাস্থল থেকে অ’স্ত্র ও মা’দক উ’দ্ধারের কথা জানিয়ে সে সময় পু’লিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লা’শিতে বাধা দেন’। পরে ‘পি’স্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পু’লিশ তাকে গু’লি করে। এই ঘটনায় পু’লিশ মা’মলাও করে। তবে পু’লিশের এই ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সে’নাবাহিনী, পু’লিশ ও প্রশাসনের প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*